প্রশ্নঃ দ্বৈতশাসন ব্যাবস্থা কি?
উত্তরঃ বাংলার নবাব মিরজাফরের
মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র নবাব নাজিম-উদ দ্দৌলা বার্ষিক ৫৩ লক্ষ টাকা ভাতার বিনিময়ে
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পছন্দের নিযুক্ত ‘নায়েব-দেওয়ান’-এর কোম্পানির একজন
বৃত্তিভোগীতে পরিণত হয়েছিলেন। অন্যদিকে, বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকা করের বিনিময়ে ইংরেজ
কোম্পানি মোগল সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার দেওয়ানি অর্থাৎ
রাজস্ব আদায় ও দেওয়ানি মামলার বিচারের ভার পায়।
এই দুই ব্যবস্থার ফলে বাংলার
শাসন-ব্যবস্থা নবাবের নামে পরিচালিত হলেও একধারে নাজিম (প্রশাসনিক ও সামরিক
প্রশাসক) এবং দেওয়ান (রাজস্ব আদায়কারী ও দেওয়ানি মামলার বিচারক) উভয় ক্ষমতার
অধিকারী কোম্পানিই বাংলার প্রকৃত শাসকে পরিণত হয়।
বাংলার দ্বৈতশাসন নামে প্রধান নবাবের
দায়িত্ব ছিল অনেক কিন্তু কোনও ক্ষমতা ছিল না, কেননা নিজের সমস্ত ক্ষমতাই তো তিনি
৫৩ লক্ষ টাকা বার্ষিক ভাতার বিনিময়ে কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করে দিয়েছেন।
অন্যদিকে কোম্পানির ক্ষমতা ছিল অনেক, কিন্তু কোনও দায়িত্ব ছিল না, কারণ শাসন
ব্যবস্থা তো বাংলার নবাবের নামেই পরিচালিত হচ্ছিল।
ইতিহাসে এই শাসনব্যাবস্থা দ্বৈতশাসন
ব্যবস্থা (Double Government or Dual Government) নামে পরিচিত। তবে নামে ‘দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা’ হলেও প্রকৃতপক্ষে তা মোটেই
দ্বৈত ছিল না, কারণ এই শাসনব্যবস্থা বাংলার নবাবের কোনও ভূমিকাই ছিল না। তাই অনেকে
ক্লাইভের এই শাসনব্যবস্থাকে মুখোশ ঢাকা শাসন ব্যবস্থা (Masked System) বলে থাকেন।
প্রশ্নঃ দ্বৈত শাসন কে প্রবর্তন
করেন? দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা কে রদ করেন?
উত্তরঃ লর্ড ক্লাইভ এটি প্রবর্তন। এই
শাসনব্যবস্থা রদ করেন ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে।
To Download This PDF Please Click Here
To Download This PDF Please Click Here


No comments:
Post a Comment