স্কুল খোলা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, স্কুল কর্তৃপক্ষদের উদ্দেশ্যে নানাবিধ নির্দেশাবলী রাজ্যের
কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা : দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে রাজ্যে স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও কলেজ এখনো খুলছে না। তবে সকল শ্রেণীর ক্লাস খোলা হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্কুল খোলা হচ্ছে শুধুমাত্র উঁচু শ্রেণিকক্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার জন্য অর্থাৎ নবম, দশম, মাধ্যমিকপ্রার্থী, একাদশ, দ্বাদশ এবং উচ্চমাধ্যমিক প্রার্থীদের জন্য।
দীর্ঘ বহুদিন কিংবা বলা যেতে পারে বহু মাস ঘরে পড়াশোনা করার পর স্কুল খুলতে চলেছে। যদিওবা স্কুল খুলছে তবুও শ্রেণিকক্ষে বসা থেকে শুরু করে স্কুলে পড়াশোনা করা সবকিছুটাই হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বেশ কিছু নির্দেশাবলী দেওয়া হয়েছে স্কুল এবং ছাত্র ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে।
ছাত্র-ছাত্রী স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উদ্দেশ্যে যে সমস্ত নির্দেশাবলী গুলি দেওয়া হয়েছে সেগুলি হল,-
1) প্রতিটি ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মীকে মাস্ক পরে থাকতে হবে। যে সব অভিভাবক স্কুলে তাঁদের বাচ্চাদের দিতে আসবেন তাঁদের স্কুলে মাস্ক পরে আসতে হবে।
2) সবাইকে দূরত্ব-বিধি মেনে চলতে হবে ও ক্লাসে বসতে হবে।
স্কুল গেটে ভিড় করা চলবে না।
3) স্কুলের ভিতরে অভিভাবক বা দর্শনার্থীরা আসতে পারবেন না।
4) কোনও ক্লাসে বেশি সংখ্যক পড়ুয়া হলে দু’টি বা তার বেশি
সংখ্যক ক্লাসে ভাগ করে নিতে হবে।
5) 12 ফেব্রুয়ারি থেকেই প্র্যাক্টিক্যাল পারে ক্লাস নেওয়া যেতে পারে।
6) স্কুলে কোভিড সংক্রান্ত সর্তকতা টাঙিয়ে রাখতে হবে।
7) স্কুলে সব ছাত্রছাত্রী একসঙ্গে প্রার্থনা করবেনা। শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি ক্লাসে আলাদা আলাদা করে প্রার্থনা হবে।
8) পড়ুয়ারা অন্যের ব্যাগ, বই, খাতা না ধরলে ভাল হয়।
9) যেখানে সেখানে থুথু ফেলা যাবে না।
10) টিফিন ভাগ করে খাওয়া কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।
11) প্রতিটি পড়ুয়া নিজস্ব জলের বােতল আনবে
12) স্কুলে পড়ুয়াদের বারবার হাত ধােয়ার অভ্যাস করতে হবে।
13) ধাতব জিনিস যেমন দুল, চেন এ সব না পরলে ভাল হয়। প্রয়ােজনে নিজস্ব স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।
14) দূরত্ব-বিধি বজায় রেখে নতুন ধরনের খেলা পড়ুয়ারা খেলতে পারে
15) মারামারি, একসঙ্গে হুটোপাটি করা যাবে না।
16) স্কুল ছুটি হলেই বাড়ি যাবে পড়ুয়ারা
17) জ্বর বা কাশি-সর্দি হলে পড়ুয়াদের স্কুলে অন্তত সাত দিন না আসার নির্দেশ স্কুলে নােটিস বাের্ডে টাঙাতে হবে।
18) স্কুলে একটি আইসােলেশন রুম থাকলে ভাল হয়।
19) শুধু ক্লাসরুম নয়, ল্যাবরেটরি, কম্পিউটার রুম নিয়মিত স্যানিটাইজ করতে হবে।
20) শৌচালয় পরিষ্কার আছে কি না দেখতে হবে।
21) স্কুলে ঢােকার আগে স্কুলের গেটে পড়ুয়াদের শরীরের তাপমাত্রা
মাপার ব্যবস্থা থাকলে ভাল হয়।
22) কোনও পড়ুয়ার দেহের তাপমাত্রা বেশি থাকলে সঙ্গে সঙ্গে
তাকে বাড়ি ফিরিয়ে দিতে হবে।
23) স্কুলে শৌচাগার পরিষ্কার করার কর্মী যথেষ্ট পরিমাণে আছেন কি না দেখতে হবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। সেই সঙ্গে স্কুলে ডাস্টবিনও যথেষ্ট পরিমাণ থাকতে হবে।
সুতরাং, উপরোক্ত সব নানাবিধ নির্দেশাবলীগুলি পালন করার পর স্কুল ও পড়াশোনার কাজ যথাযথভাবে পালন করতে হবে। প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের নিজেদেরকে নিজেদের সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।


No comments:
Post a Comment