পড়াশোনা এর সময় ঘুম কেন পায়? উপায় কি চাঁদু?
কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: আমাদের ছাত্রজীবন
এ এরকমটা ঠিক সবার সঙ্গেই কখনও না কখনও হয়ে থাকে, পড়তে বসলেই ঘুম পেয়ে যায়। এরকমটা ঠিক কেন হয়? কিভাবেই বা এই অভ্যাস এর পরিবর্তন করা যেতে পারে? এই ধরনের কিছু প্রশ্ন আমাদের মনে রয়েই যায়। আমরা তখন নানা ভাবে
চেষ্টা করে এর সমাধান খোঁজার চেষ্টা করি। আজ এই বিষয় সংক্রান্ত কিছু তথ্য উপস্থাপন
করা হলো এই প্রতিবেদন এর মাধ্যম।
আসল ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবে কি হয়?
আমরা যখন পড়তে বসি আমাদের তখন ঘুম পাই। কিন্তু কাজ করার সময় ঘুম পাই কেন? কাজ করার সময় ঘুম পাই আমাদের ক্লান্তির জন্য কিংবা সম্পূর্ণ
ঘুম (প্রয়োজনিয় ৭-৮ ঘন্টা ঘুম) পূরণ না হলে। ঘুম পূরণ না হওয়ার জন্য যদি ঘুম পাই, তাহলে ঘুমিয়ে নিয়ে পড়তে বসাটাই বেশি কার্যকরী হবে। কিন্তূ যদি
এটা কারণ না হয়, তাহলে কাজ করার সময় ঘুম
পেয়ে থাকে ক্লান্তির জন্য।
কাজের সময় ঘুম পেলে কি কি করা যেতে পারে?
যে যে কাজ গুলোর প্রতি নজর রাখলে কাজের সময় বা পড়াশোনা এর সময় ঘুম এড়ানো যেতে পারে
সেগুলোর একটা তালিকা নীচে দেওয়া হলো :
১) কাজের প্রতি মন দিন: আমরা আগেই ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছি যে ঘুম পাই ক্লান্তির
জন্য। কিন্তু আমরা কোন জিনিসটা করতে ক্লান্তি অনুভব করি? যেটা বা যে কাজটা আমাদের করতে ভালো লাগেনা, তাইতো ! তাই প্রথম ধাপই হলো নিজের কাজকে ভালোবাসতে শিখুন। একবার
ভেবে দেখুন তো আপনার পড়াশোনা করার সময় পড়াশোনা বাদ দিয়ে যদি কোনো মুভি বা ক্রিকেট ম্যাচ
চালিয়ে দেওয়া হতো, তাহলে কি আপনার ঘুম পেতো? পেতোনা তাইনা। এটার কারণ হলো আপনি মুভি বা ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে
পছন্দ করেন কিন্তু পড়তে না। তাই আগে নিজের কাজের প্রতি মন দিন ও নিজের কাজকে ভালোবাসতে
শিখুন। দেখবেন ঘুম পাবেনা।
২) পড়ার সময় বিছানা এড়িয়ে যান : যেহেতু আমাদের ছোটবেলা থেকেই একটা অভ্যাস হয়ে রয়েছে
যে বিছানাই ওঠা মাত্র আমরা লতিয়ে পড়ি। তাই ছোটবেলা থেকে অপ্রতক্ষভাবে আমাদের মাথায়
এটা সজাগ হয়েছে যে আমরা ক্লান্ত তাই ঘুমোনোর জন্য বিছানায় এসেছি। তাই আমাদের না চাওয়াতেই
অজান্তে আমাদের চোখে ঘুম এসে যায়। আর আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। তাই পড়াশোনার সময় বিছানা তথা
কোনো আরামদায়ক চেয়ার ব্যবহার না করাই ভালো।
৩) বার বার একই কাজ করা : আমরা অনেকেই আছি যারা আগে থেকেই পড়া সেরে নিয়েছি বা যেই
কাজটা আমরা করছি সেটা এর আগেও আমরা অনেকবার করেছি। কিন্তু কোনো কারণ বসত আবার সেই কাজ
করতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমরা একই কাজ বার বার করার প্রতি মনোযোগ দিতে পারিনা। তখন বিরক্তিবোধ
হয় এবং তার কারণে ঘুম আসে। তাই চেষ্টা করুন প্রত্যেক কাজ নতুনভাবে করার। যেমন -- যদি
এর আগে আপনি একটা নোট মুখস্ত করে থাকেন তাহলে চেষ্টা করুন ওই নোট সম্পর্কে আরো বেশি
কিছু জানার বা আপনি ওই নোট লিখতে পারেন বা নিজে মতপ্রকাশ করে আপনার নিজের কোনো ডাইরিতে
প্রতিস্থাপন করতে পারেন। এতে আপনার অভিজ্ঞতা আর মনোযোগ দুটোই বাড়বে।
৪) একটা রুটিন তৈরী করা : আমরা অনেকেই আছি যারা পড়াশোনা করার ক্ষেত্রে কোনো রুটিন
বা কোনো রুল প্রতক্ষ করিনা। একটা জিনিস লক্ষ্য করে দেখবেন অন্যান্য সময় পড়ার ইচ্ছা
না থাকলেও পরীক্ষা এর সময় পড়তে বসলে ঘুমও পাইনা আর মনোযোগও কম হয়না। আসলে একটা কেন
হয়? এটা হয় চাপ থাকার কারণে। আপনি
জানেন আপনি না পড়লেও আপনার রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা হবেই আর তার পরিণতি খারাপ হতে পারে।
তাই চেষ্টা করুন নিজের থেকে এরকম কিছু রুটিন বানানোর। যেমন- একদিনে একটা নোট বা চ্যাপ্টার
শেষ করা ইত্যাদি।
উপরিউক্ত এই চারটি বিষয় লক্ষ করে আপনি পড়াশোনা করার সময় ঘুম এড়িয়ে যেতে পারেন কিন্তু
আপনাকে চেষ্টা করে যেতেই হবে। প্রথম প্রথম আপনি রেজাল্ট না পেলেও দীর্ঘসময়ে এর ফল আপনি
পাবেনই।


No comments:
Post a Comment